মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংসদে প্রধানমন্ত্রী; পুনরায় জনপ্রতিধিত্বশীল সংসদের যাত্রা শুরু জগন্নাথপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ২ জন ভারতে গ্রেফতার জগন্নাথপুরে হাসপাতালের ভবন থেকে পড়ে রোগীর মৃত্যু দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না: প্রধানমন্ত্রী কোন অনিয়ম দূর্নীতি বরদাশত করবো না, নলুয়ার হাওরের বেরী বাধঁ পরিদর্শন কালে কয়ছর আহমদ এমপি  সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদের সাথে জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে: এমপি কয়ছর আহমেদ

সংসদে প্রধানমন্ত্রী; পুনরায় জনপ্রতিধিত্বশীল সংসদের যাত্রা শুরু

সংসদে প্রধানমন্ত্রী; পুনরায় জনপ্রতিধিত্বশীল সংসদের যাত্রা শুরু

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না, আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অবশেষে আজ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহীমূলক সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই যার অশেষ রহমতে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছি।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ শুরুর এই যাত্রা লগ্নে আমি তাদেরকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। এই আন্দোলন সংগ্রামে যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার তাদের সন্তান স্বজন হারিয়েছেন যেসব আহত মানুষকে তাদের স্বাচ্ছন্দের জীবন হারাতে হয়েছে, যেসব মানুষগুলো নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলা শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন আমি তাদের সকলের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সব শ্রেণিপেশার মানুষ, যাদেরকে গুম খুন হত্যা নির্যাতন নিপীড়ন মিথ্যা হামলা মামলা কিংবা জীবন্ত মানুষের কবরস্থান তুল্য বরবর বন্দিশালা আয়নাঘর কোন কিছুতে দিয়েই যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি। যাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রা লগ্নে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতান্ত্রিককামী বীর ছাত্রজনতাকে জানাই অভিনন্দন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খালেদা জিয়া। সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনের রূপ দিয়ে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করা হয়েছিল। দেশের তাবেদারী শাসন শোষণ কায়েম করা হয়েছিল। দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। জীবনে কখনোই স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। দেশে আজ থেকে আবারও সেই কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। আলহামদুলিল্লাহ। সংসদীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠাতা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের সাফল্যে এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আজ তাই এই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থে আপসীন নেতৃত্ব ব্যক্তিত্ব স্মরণীয় বরণীয় অনুকরণীয় রাজনীতিবিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা উল্লেখ করে তার উক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছিলেন জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয় তাহলে আমি সেই দলেরই আছি। অর্থাৎ ব্যক্তি কিংবা দলের স্বার্থ নয় জনগণের স্বার্থই সবচাইতে বড়। এটাই বিএনপির রাজনীতি।

তিনি বলেন, আমি আমি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় সংসদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি এই জাতীয় সংসদ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর করাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাইছি। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রতিজন সংসদ সদস্যের সমর্থন এবং সহযোগিতা আশা করছি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।

নতুন সরকার যাত্রার শুরুতে স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী এবং গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে বা জনরোষ তৈরি হয়েছিল তাতে এই মহান সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী এবং তাঁবেদারী শাসন শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ আমাদের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

সংসেদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয় ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।

সূত্র: সমকাল।।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2023 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com